রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৯:০৯
পাঁচ সময়ে দোয়ার সুযোগকে কাজে লাগান

দোয়া অস্থির হৃদয়ের প্রশান্তি এবং কঠিন সময়ে আশার আলো। তবে কিছু সময় রয়েছে, যখন মহান আল্লাহর সঙ্গে মোনাজাত ও তাঁর রহমত লাভের জন্য বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: শহীদ নেতার এক নূরানী বর্ণনায় এমন পাঁচটি সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যখন দোয়ার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।

ইমাম জাফর সাদিক (আ.) তাঁর পিতা ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.) থেকে বর্ণনা করেন,

اِغْتَنِمُوا الدُّعَاءَ عِندَ خَمسٍ: عِندَ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ، وَعِندَ الْأَذَانِ، وَعِندَ نُزُولِ الْغَیْثِ، وَعِندَ الْتِقَاءِ الصَّفَّیْنِ لِلشَّهَادَةِ، وَعِندَ دَعْوَةِ الْمَظْلُومِ.

অর্থ: পাঁচটি সময়ে দোয়ার সুযোগকে কাজে লাগাও—কুরআন তিলাওয়াতের সময়, আজানের সময়, বৃষ্টি নাজিল হওয়ার সময়, শাহাদাতের উদ্দেশ্যে দুই পক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সময় এবং মজলুমের দোয়ার সময়। (আল-আমালি, শায়খ সাদুক, পৃ. ৩২৯)

সব অবস্থাতেই আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। বান্দাদের জন্য আল্লাহর অন্যতম বড় নিয়ামত হলো—তিনি দোয়ার দরজা সবসময় উন্মুক্ত রেখেছেন। কোনো মধ্যস্থতা বা বিশেষ আয়োজন ছাড়াই মানুষ সরাসরি মহান আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে পারে, তাঁর কাছে নিজের প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে পারে এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের পথ তৈরি করতে পারে।

এটি নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহর এক বড় অনুগ্রহ। তবে কিছু সময় রয়েছে, যখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। যেমন—রজব ও শাবান মাসের বরকতময় দিনগুলো, পবিত্র রমজান মাস এবং আরাফার দিন।

হাদিসে ইমাম (আ.) এমন পাঁচটি বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যখন দোয়াকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে:

১. কুরআন তিলাওয়াতের সময়: কুরআন পাঠের সময় দোয়া করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

২. আজানের সময়: আজান হলো নামাজের দিকে আহ্বান এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ইবাদতের দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার সুসংবাদ। তাই এ সময় দোয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৩. বৃষ্টি নাজিল হওয়ার সময়: বৃষ্টি মহান আল্লাহর রহমতের নিদর্শন। তাই বৃষ্টি নাজিলের সময় দোয়া করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

৪. শাহাদাতের জন্য দুই পক্ষ মুখোমুখি হওয়ার সময়: এখানে ‘শাহাদাত’ বলতে যুদ্ধের ময়দানে আল্লাহর পথে শাহাদাতকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ দুই পক্ষ যখন যুদ্ধের জন্য মুখোমুখি হয়, তখন দোয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

৫. মজলুমের দোয়ার সময়: কোনো নির্যাতিত ব্যক্তি যখন মহান আল্লাহর কাছে নিজের অভিযোগ ও কষ্টের কথা তুলে ধরে, তখন তার দোয়া বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। শুধু মজলুমের দোয়াই নয়, যে ব্যক্তি তার ওপর হওয়া জুলুম প্রত্যক্ষ করে তার দোয়াও কবুল হতে পারে। কারণ মজলুমের আহাজারি ও দোয়া আল্লাহর দরবারে পৌঁছাতে কোনো পর্দা বা বাধা থাকে না।

সূত্র: শহীদ নেতার হাদিসের ব্যাখ্যা; খারিজে ফিকহের পাঠের ভূমিকা, ২০ মে ২০১৫।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha